Contact us:
info@elawyerbd.com

কাস্টমস আপীল

কাস্টমস সম্পর্কিত আইন একীভূত করন ও সংশোধনকল্পে কাস্টমস আইন , ১৯৬৯ প্রণয়ন করা হয় । এই আইনের মাধ্যমে কাস্টমস শুল্ক আরোপ, আদায় এবং অন্যান্য সহযোগী বিষয়াবলীর বিধান করা হয়েছে । কাস্টমস আইন ১৯৬৯ এর ধারা ১৯৩, হতে ধারা ১৯৬ঢ পর্যন্ত কাস্টমস আপীল ও পুনরীক্ষনের বিধান সম্পর্কে বলা হয়েছে ।
সাধারনত কোন পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করলে, আমদানীকারককে  সেই আমদানীকৃত পণ্যের জন্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল কাস্টমস ট্যারিফ অনুযায়ী নির্ধারিত হারে, পণ্যের এইচ এস কোড অনুযায়ী, পণ্যের মূল্যের উপর সরকারকে কাস্টমস শুল্ক ও কর প্রদান করতে হয় । আমদানীকৃত পণ্য দেশে এসে পৌছানোর পরে আমদানীকারক পণ্য খালাসের উদ্দেশ্যে তার সিএনএফ এজেন্টের মাধ্যমে বিল অব এন্ট্রি এবং অন্যান্য কাগজ পত্রাদি সেই কাস্টম হাউসে  জমা দেন । বিল অব এন্ট্রিতে আমদানীকারক তার পণ্যের বিবরণ, পণ্যের মূল্য, পণ্যের পরিমান, পণ্যের এইচএসকোড, ইনভয়েস নাম্বার, এলসি নাম্বার এবং পণ্য সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়াবলি উল্লেখ করে থাকেন। আমদানীকারক বিল অব এন্ট্রিতে একই সাথে পণ্যের মূল্য এবং পণ্যের এইচ এস কোড এর উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল কাস্টমস ট্যারিফ অনুযায়ী পণ্যের কাস্টমস শুল্ক ও অন্যান্য করের পরিমানও হিসেব করে উল্লেখ করেন । কাস্টমস অফিসারের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, আমাদানীকারক  কাস্টমস শুল্ক কম দেওয়ার উদ্দেশ্যে পণ্যের মূল্য কম দেখিয়েছে এবং/অথবা পণ্যের এইচ এস কোড পরিবর্তন করে অন্য এইচ এস কোড ব্যবহার করেছে, সেক্ষেত্রে কাস্টমস অফিসার আমদানীকারক এর বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষিত পণ্য মূল্য এবং/অথবা পণ্যের এইচ এস কোড পরিবর্তন করে নতুন করে পণ্যের মূল্য (মূল্যায়ন বিধিমালা, ২০০০ অনুযায়ী) এবং/অথবা পণ্যের এইচ এস কোড নির্ধারন করে একটি নোট শিটের মাধ্যমে নতুন করে কাস্টমস শুল্ক নির্নয় করতে পারেন । অনেক সময় দেখা যায়, কাস্টমস অফিসারগণ বেশি শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যে অন্যায়ভাবে পণ্যের মূল্য এবং/অথবা পণ্যের এইচ এস কোড পরিবর্তন করেন এবং আমদানিকৃত পণ্যের উপর বেশি হারে কাস্টমস শুল্ক নির্ধারন করেন, এসব ক্ষেত্রে আমদানীকারকের প্রতিকার হলো কাস্টমস আপীল । নিচে কাস্টমস আপীল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
ধারা–১৯৩।। কমিশনার (আপীল) এর নিকট আপীল–
(১) পদমর্যাদায় কমিশনার অব কাস্টমস এর নিম্নের কোন কর্মকর্তা কর্তৃক, ধারা ৮২ অথবা ধারা ৯৮ এর অধীন প্রদত্ত সিদ্ধান্ত অথবা আদেশ ব্যতীত, এই আইনের অধীন প্রদত্ত কোন সিদ্ধান্ত অথবা আদেশ দ্বারা কোন ব্যক্তি সংক্ষুদ্ধ হলে তিনি উক্ত সিদ্ধান্ত অথবা আদেশ তাকে অবহিত করার তারিখ হতে তিন মাসের মধ্যে কমিশনার (আপীল) এর নিকট আপীল করতে পারবেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, কমিশনার (আপীল) যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, আপীলকারী উপরিউক্ত তিন মাস মেয়াদের মধ্যে আপীল দায়ের করা হতে যথেষ্ট কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাহলে তিনি পরবর্তী দুইমাস মেয়াদের মধ্যে উহা দায়ের করার অনুমতি প্রদান করতে পারবেন।
(২) এই ধারার অধীন প্রত্যেক আপীল এতদবিষয়ে বিধিমালা দ্বারা যেইরূপ নির্ধারিত হয় সেইরূপ ফরমে এবং সেইরূপ পদ্ধতিতে প্রতিপাদন করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদিঃ  
১। আপীল আবেদন (৩ কপি) (চট্রগ্রাম কাস্টম হাউসের ক্ষেত্রে ৪ কপি)
২। অঙ্গীকারনামা (চট্রগ্রাম কাস্টম হাউসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)
৩। বিল অব এন্ট্রি
৪। ইনভয়েস
৫। প্রোফর্মা-ইনভয়েস
৬। এল সি
৭। প্যাকিং লিস্ট
৮। এসেসমেন্ট নোটিশ
৯। স্ট্যাম্প ফি ২২০ টাকা
১০। সংক্ষুদ্ধ আদেশের কপি
১১। ৫০% দাবীকৃত কাস্টমস শুল্কের পরিশোধ
ধারা–১৯৩এ।। আপীলের পদ্ধতি–
(১) আপীলকারী শুনানীর ইচছা ব্যক্ত করলে কমিশনার (আপীল) তাঁকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করবেন।
(২) কোন আপীলের শুনানীতে কমিশনার (আপীল) আপীলের হেতুবাদসমূহে উল্লেখ করা হয় নাই এমন কোন হেতুবাদ আপীলকারীকে উল্লেখ করার অনুমতি দিতে পারবেন, যদি তিনি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে উক্ত হেতুবাদ আপীলের হেতুবাদসমূহ হতে বাদ যাওয়া ইচ্ছাকৃত অথবা অযৌক্তিক ছিল না।
(৩) কমিশনার (আপীল) যেরূপ প্রয়োজন হতে পারে সেইরূপ অধিকতর তদন্ত করে যে সিদ্ধান্ত অথবা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা হয়েছে তা বহাল রেখে, পরিবর্তন করে অথবা বাতিল করে যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করেন ইহার উপর সেইরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, অর্থদন্ড অথবা বাজেয়াপ্তকরণের পরিবর্তে জরিমানা বৃদ্ধি করে অথবা অধিকতর মূল্যের পণ্য বাজেয়াপ্ত করে অথবা ফেরত প্রদানের অর্থ হ্রাস করে, প্রস্তাবিত আদেশের বিরুদ্ধে আপীলকারীকে কারণ দর্শানোর যুক্তিসঙ্গত সুযোগ না দিয়ে, কোন আদেশ প্রদান করা যাবেনা আরোও শর্ত থাকে যে, যে ক্ষেত্রে কমিশনার (আপীল) এই অভিমত পোষণ করেন যে কোন শুল্ক আরোপ করা হয় নাই অথবা কম আরোপ করা হয়েছে অথবা ভুলবশতঃ ফেরত প্রদান করা হয়েছে সেইক্ষেত্রে আপীলকারীকে প্রস্তাবিত আদেশের বিরুদ্ধে ধারা- ১৬৮ এ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কারণদর্শানোর নোটিশ না দিয়ে অনারোপিত, কম আরোপিত অথবা ভুলবশতঃ ফেরত প্রদত্ত কোন শুল্ক পরিশোধ বাধ্য করে কোন আদেশ প্রদান করা যাবে না।
(৪) কমিশনার (আপীল) এর আপীল নিষ্পত্তির আদেশ লিখিতে হবে এবং তাতে বিচার্য বিষয়গুলো, উহার উপর সিদ্ধান্ত এবং সিদ্ধান্তের জন্য যুক্তিসমূহ লিপিবদ্ধ থাকবে।
(৫) আপীল নিষ্পত্তির পর কমিশনার (আপীল) তৎকর্তৃক প্রদত্ত আদেশ আপীলকারী, ন্যায়-নির্ণয়ন কর্তৃপক্ষ এবং কমিশনার অব কাস্টমসের নিকট প্রেরণ করবেন।
ধারা–১৯৩বি।। বোর্ড কর্তৃক কোন ভুল ইত্যাদি সংশোধনের ক্ষমতা–
বোর্ড এই আইন অথবা ইহার অধীন প্রণীত বিধিমালার কোন বিধান অনুযায়ী প্রদত্ত কোন আদেশের নথিপত্র হতে দৃশ্যত প্রতীয়মান কোন ভুল অথবা অশুদ্ধতা উক্ত আদেশ প্রদানের এক বছরের মধ্যে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে অথবা কোন ব্যক্তির আবেদনক্রমে সংশোধন করতে পারবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, অর্থদন্ড অথবা জরিমানা বৃদ্ধি করতে অথবা অধিকতর পরিমাণ শুল্ক প্রদানে বাধ্য করতে পারে এইরূপ কোন সংশোধন, উক্ত সংশোধন দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে অথবা তাঁর নিকট হতে যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কৌসুলি অথবা অন্য কোন ব্যক্তির মাধ্যমে শুনানীর সুযোগ প্রদান না করে, করা যাবে না।
ধারা–১৯৪।। নিষ্পন্নাধীন আপীলের দাবীকৃত শুল্ক বা আরোপিত অর্থদন্ড জমা প্রদান –
(১) কোন ব্যক্তি কাস্টমসের নিয়ন্ত্রণাধীনে নাই এমন পণ্যের ক্ষেত্রে দাবী সম্পর্কিত কোন সিদ্ধান্ত অথবা আদেশের বিরুদ্ধে অথবা এই আইনের অধীন আরোপিত কোন অর্থদন্ডের বিরুদ্ধে আপীল করার ইচ্ছা করলে তিনি আপীল দায়ের করার সময়ে অথবা আপীলাত কর্তৃপক্ষ তাঁকে অনুমতি প্রদান করলে আপীলটি বিবেচনার পূর্বে যে কোন পর্যায়ে দাবীকৃত শুল্ক অথবা আরোপিত অর্থদন্ড যথোপযুক্ত কর্মকর্তার নিকট জমা প্রদান করবেন। তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ব্যক্তি উপরিউক্ত অর্থদন্ডের সম্পূর্ণ পরিমাণ অর্থ জমা প্রদানের পরিবর্তে উহার ৫০% জমা প্রদান করতে এবং অবশিষ্ট ৫০% অর্থ পরিশোধের জন্য তফসিলি ব্যাংক হতে গ্যারান্টি দাখিল করতে পারবেন।
আরও শর্ত থাকে যে, যদি কোন বিশেষ ক্ষেত্রে আপীলাত কর্তৃপক্ষ এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, দাবীকৃত শুল্ক অথবা আরোপিত অর্থদন্ড জমা করন আপীলকারীর জন্য অযথা কষ্টের কারণ হবে তাহলে উহা বিনা শর্তে বা উহার বিবেচনায় যথোপযুক্ত শর্ত আরোপ সাপেক্ষে উক্ত জমা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা হতে আপীলকারীকে অব্যাহতি দিতে পারবেন।
(২) যদি কোন আপীলের উপর এই সিদ্ধান্ত হয় যে উপরিউক্ত শুল্ক অথবা অর্থদন্ডের সম্পূর্ণ অথবা উহার যে কোন অংশ আরোপযোগ্য ছিল না, তাহলে যথোপযুক্ত কর্মকর্তা আপীলকারীকে উক্ত অর্থ অথবা, ক্ষেত্রমত, অংশ বিশেষ ফেরত প্রদান করবেন।
ধারা–১৯৫।। বোর্ডের নথিপত্র, ইত্যাদি তলব এবং পরীক্ষা করার ক্ষমতা –
(১) বোর্ড স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে এই আইনের অধীন কোন কার্যধারার নথিপত্র, উহাতে বোর্ডের অধঃস্তন কোন কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত অথবা আদেশের বৈধতা অথবা ন্যায্যতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হওয়ার উদ্দেশ্যে, তলব এবং পরীক্ষা করতে পারবে এবং তৎসম্পর্কে বোর্ড যেরূপ বিবেচনা করে সেইরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, অধিকতর মূল্যের পণ্য বাজেয়াপ্তকরণের কোন আদেশ অথবা বাজেয়াপ্তির পরিবর্তে জরিমানা বৃদ্ধির কোন আদেশ অথবা কোন অর্থদন্ড আরোপের অথবা বৃদ্ধির কোন আদেশ অথবা অনারোপিত অথবা কম আরোপিত কোন শুল্ক পরিশোধে বাধ্য করে কোন আদেশ, উহা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এইরূপ ব্যক্তিকে উহার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়ে এবং ব্যক্তিগতভাবে অথবা তাঁর নিকট হতে যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কৌঁসুলী অথবা অন্য কোন ব্যক্তির মাধ্যমে শুনানীর সুযোগ না দিয়ে, প্রদান করা যাবে না।
কোন কাস্টমস কর্মকর্তার কোন সিদ্ধান্ত অথবা আদেশ সম্পর্কিত কার্যধারার নথিপত্র উক্ত সিদ্ধান্ত অথবা আদেশ প্রদানের দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পর উপধারা (১) এর অধীন তলব এবং পরীক্ষা করা যাবেনা।

Leave a comment