Contact us:
info@elawyerbd.com

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে অংশ বন্টন

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে অংশ বন্টন

১। পিতাঃ পিতা সাধারণত তিন অবস্থায় সম্পত্তি পান,

ক) মৃত ব্যক্তির পুত্র, পুত্রের পুত্র (যত নিম্নগামী হোক না কেন) থাকলে পিতা শুধুমাত্র কোরানিক অংশীদার হিসেবে ১/৬ সম্পত্তি পাবে । যেমনঃ

পিতা- ১/৬ (কোরানিক অংশীদার হিসেবে)

পুত্র- ৫/৬ (অবশিষ্ট ভোগী)

খ) মৃত ব্যক্তির এক বা একাধিক কন্যা বা পুত্রের কন্যা থাকলে পিতা (১/৬+অবশিষ্ট ভোগী)হিসেবে পাবে । যেমনঃ

কন্যা- ১/২ বা, ৩/৬

পিতা- (১/৬+অবশিষ্ট ভোগী) বা, ১/৬+২/৬

গ) মৃত ব্যক্তির কোন সন্তানাদি না থাকলে পিতা শুধুমাত্র অবশিষ্ট ভোগী হবেন । অন্যান্য অংশীদারদের দেয়ার পর বাকী সমস্তই তিনি পাবেন । যেমনঃ

স্ত্রী- ১/৪ (কোরানিক অংশীদার হিসেবে)

পিতা- ৩/৪ (অবশিষ্ট ভোগী)

২। পিতার পিতাঃ

ক) পিতার বর্তমানে পিতার পিতা কোন অংশ পাবে না ।

খ) পিতার অবর্তমানে পিতার মত তিনিও তিন অবস্থায় সম্পত্তি পাবেন । নিকটতম পিতার পিতা দ্বারা দূরবর্তী পিতার পিতা বাদ যান ।

৩। কন্যাঃ

কন্যার তিন অবস্থা হতে পারে,

ক) একজন কন্যা হলে- ১/২ অংশ পাবে । যেমনঃ

কন্যা- ১/২ বা, ৩/৬

পিতা- (১/৬+অবশিষ্ট ভোগী) বা, ১/৬+২/৬

খ) দুই বা ততোধিক কন্যা থাকলে তাঁরা একত্রে ২/৩ অংশ পাবে । যেমনঃ

২ কন্যা- ২/৩ বা, ৪/৬

পিতা- (১/৬+অবশিষ্ট ভোগী) বা, ১/৬+১/৬

গ) পুত্র থাকলে সে ক্ষেত্রে কন্যা কোন নিদিষ্ট অংশ না পেয়ে পুত্রের সাথে অবশিষ্ট ভোগী হিসেবে ২:১ অনুপাতে পাবে । যেমনঃ

কন্যা- ১/৩

পুত্র- ২/৩

৪। পুত্রের কন্যাঃ

ক) যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র, একাধিক কন্যা, একাধিক উচ্চতর পুত্রের কন্যা থাকলে পুত্রের কন্যা অংশ পাবে না ।

খ) যদি মৃত ব্যক্তির একমাত্র কন্যার সাথে এক বা একাধিক পুত্রের কন্যা থাকে তাহলে পুত্রের কন্যা ১/৬ অংশ পাবে । যেমনঃ

কন্যা- ১/২

২ পুত্রের কন্যা- ১/৬

পিতা- ১/৬+অবশিষ্ট ভোগী

গ) অন্য কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে পুত্রের কন্যা একজন হলে ১/২ অংশ আর একাধিক হলে ২/৩ অংশ পাবে ।

ঘ) পুত্রের কন্যা যদি কারো দ্বারা বাদ যায় তাহলে নিম্নবর্তী পুত্রের পুত্র এর সাথে ২:১ অনুপাতে অবশিষ্ট ভোগী হবে । যেমনঃ

২ কন্যা- ২/৩

পুত্রের পুত্র- ২/৩ এর ১/৩

পুত্রের কন্যা- ১/৩ এর ১/৩ (২ কন্যা দ্বারা পুত্রের কন্যা বাদ যাওয়ার কথা কিন্তু পুত্রের পুত্র থাকার কারনেই পুত্রের কন্যা এখানে সম্পত্তি পেয়েছে। এক্ষেত্রে তাকে সৌভাগ্যবতী বলা হয় ।)

ঙ) পুত্রের কন্যা ও পুত্রের পুত্রের কন্যারা একত্রে থাকলে, পুত্রের কন্যা=কন্যা ও পুত্রের পুত্রের কন্যারা=পুত্রের কন্যার মত আচরন করবে । যেমনঃ

পুত্রের কন্যা- ১/২(কন্যার মত আচরন)

পুত্রের পুত্রের কন্যা- ১/৬(পুত্রের কন্যার মত আচরন)

৫) স্বামীঃ

ক) মৃত ব্যক্তির সন্তান সন্ততি থাকলে স্বামী কোরানিক অংশীদার হিসেবে ১/৪ অংশ পাবে ।

খ) মৃত ব্যক্তির সন্তান সন্ততি না থাকলে স্বামী কোরানিক অংশীদার হিসেবে ১/২ অংশ পাবে ।

গ) কারো দ্বারা বাদ যাবে না ।

৬) স্ত্রীঃ

ক) মৃত ব্যক্তির সন্তান সন্ততি থাকলে স্বামী কোরানিক অংশীদার হিসেবে ১/৮ অংশ পাবে ।

খ) মৃত ব্যক্তির সন্তান সন্ততি না থাকলে স্বামী কোরানিক অংশীদার হিসেবে ১/৪ অংশ পাবে ।

৭) মাতাঃ

ক) মৃত ব্যক্তির সন্তান, পুত্রের সন্তান(যত নিম্নগামী হোক না কেন), যে কোন প্রকার একাধিক ভাই-বোন থাকলে মা কোরানিক অংশীদার হিসেবে ১/৬ অংশ পাবে ।

খ) এদের অবর্তমানে মা কোরানিক অংশীদার হিসেবে ১/৩ অংশ পাবে ।

গ) মাতার সাথে মৃত ব্যক্তির পিতা থাকলে এবং স্বামী বা স্ত্রীর যে কোন একজন থাকলে, স্বামী বা স্ত্রীকে তাদের নির্ধারিত অংশ দেওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তির ১/৩ অংশ মাতা পাবে । এটি ওমরাতিয়ান নীতি নামে পরিচিত । যেমনঃ

স্বামী- ১/২ বা, ৩/৬

মাতা- ১/৩ বা, ২/৬

পিতা- (অবশিষ্ট ভোগী) ১/৬ (মাতা এবং পিতা একই শ্রেনীভুক্ত নারী পুরুষ হওয়ায় তাদের সম্পত্তির অংশ ২:১ অনুপাতে হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু এখানে মাতা পিতার চেয়ে বেশি অংশ পেয়েছে আর এ জন্যই ওমরাতিয়ান নীতি প্রয়োগ করা হয় ।)

ওমরাতিয়ান নীতিঃ

স্বামী- ১/২ বা, ৩/৬

মাতা- (১/৩ এর ১/২) বা, ১/৬ (স্বামী বা স্ত্রীকে তাদের নির্ধারিত অংশ দেওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তির ১/৩ অংশ মাতা)

পিতা- (অবশিষ্ট ভোগী) ২/৬

৮) নানী বা দাদীঃ

ক) মৃত ব্যক্তির মাতার বর্তমানে নানী বা দাদী কোন অংশ পাবে না ।

খ) মৃত ব্যক্তির পিতার বর্তমানে দাদী কোন অংশ পাবে না ।

গ) মৃত ব্যক্তির পিতার পিতার বর্তমানে নানী বা দাদী উভয়ই অংশ পাবে ।

ঘ) নানী বা দাদী একজন অথবা একাধিক হলেও তাঁরা কোরানিক অংশীদার হিসেবে ১/৬ অংশ পাবে ।

৯) আপন বোনঃ

ক) পুত্র, পুত্রের পুত্র(যত নিম্নগামী হোক না কেন), পিতা, পিতার পিতা(যত উচ্চগামী হোক না কেন) এদের বর্তমানে আপন বোন কোন অংশ পাবে না ।

খ) কন্যা, পুত্রের কন্যা, এদের বর্তমানে আপন বোন অবশিষ্ট ভোগী হিসেবে অংশ পাবে ।

গ) আপন ভাইয়ের সাথে ২:১ অনুপাতে অবশিষ্ট ভোগী হিসেবে অংশ পাবে ।

ঘ) উপরোক্তদের অবর্তমানে আপন বোন একা হলে ১/২ অংশ এবং একাধিক হলে কোরানিক অংশীদার হিসেবে ২/৩ অংশ পাবে ।

১০) বৈমাত্রেয় বোনঃ

ক) একা থাকলে বৈমাত্রেয় বোন কোরানিক অংশীদার হিসেবে ১/২ অংশ পাবে ।

খ) একাধিক থাকলে বৈমাত্রেয় বোন কোরানিক অংশীদার হিসেবে ২/৩ অংশ পাবে ।

গ) একজন আপন বোনের সাথে একজন বৈমাত্রেয় বোন অথবা একাধিক বৈমাত্রেয় বোন থাকলে তাঁরা মিলিত ভাবে ১/৬ অংশ পাবে ।

ঘ) মৃত ব্যক্তির পুত্র, পুত্রের পুত্র(যত নিম্নগামী হোক না কেন), পিতা, পিতার পিতা(যত উচ্চগামী হোক না কেন), একাধিক আপন বোন, আপন ভাই থাকলে বৈমাত্রেয় বোন কোন সম্পত্তি পাবে না ।

ঙ) কন্যা অথবা পুত্রের কন্যার সাথে থাকলে বৈমাত্রেয় বোন অবশিষ্ট ভোগী হিসেবে অংশ পাবে ।

চ) বৈমাত্রেয় ভাইয়ের সাথে থাকলে ২:১ অনুপাতে অবশিষ্ট ভোগী হিসেবে অংশ পাবে ।

১১) বৈপিত্রিয় ভাইঃ এবং ১২) বৈপিত্রিয় বোনঃ

ক) একা থাকলে কোরানিক অংশীদার হিসেবে ১/২ অংশ পাবে ।

খ) একাধিক বৈপিত্রিয় ভাই বা বোন থাকলে তাঁরা সবাই মিলে একত্রে কোরানিক অংশীদার হিসেবে ১/৩   অংশ পাবে । এক্ষেত্রে ভাই ও বোনের মধ্যে ২:১ নীতি প্রযোজ্য নয় । যেমনঃ

বৈপিত্রিয় ভাই- ১/২ এর ১/৩

বৈপিত্রিয় বোন- ১/২ এর ১/৩ (এখানে বৈপিত্রিয় ভাই ও বোন একত্রে কোরানিক অংশীদার হিসেবে ১/৩   অংশ পেয়েছে। এক্ষেত্রে ভাই ও বোনের মধ্যে ২:১ নীতি প্রযোজ্য নয়)

আপন বোন- ১/২

বৈমাত্রেয় বোন- ১/৬

গ) মৃত ব্যক্তির সন্তান, পুত্রের সন্তান(যত নিম্নগামী হোক না কেন), পিতা পিতার পিতা থাকলে কোন অংশ পাবে না ।

Leave a comment