Contact us:
info@elawyerbd.com

জমি কেনার পর করণীয়

অনেকেই আমরা জমি কিনে ফেলে রাখি। কোন খোঁজ-খবর রাখিনা। কালে ভদ্রে যাই। অনেকে কখনও যাই না। এটি একটি মারাত্মক ভুল করে জমি নিয়ে আপনাকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে বা জমি বেহাত হয়ে যেতে পারে। জমি ফেলে রাখলে সংলগ্ন জমির মালিক বা আগের মালিক বা  তার ওয়ারিশরা কিংবা অন্য যে কেউই ঐ জমি বেদখল করে নিতেপারে। অনেক ক্ষেত্রে জাল দলিল তৈরী করে জমি বিক্রি করে দেয়ার ঘটনাও ঘটে থাকে। ছিন্নমূল মানুষও ঘর বা দোকান বানিয়ে দিব্বি ব্যবসা বাণিজ্য খুলে বসে। জমি না চেনার বা অবস্থান না জানার জন্য মালিকের মৃত্যুর পর তার ছেলে-মেয়েবা ওয়ারিশগণ ঐ জমির খোঁজ পান  না।  জমির খোঁজ খবর না রাখার জন্য এরকম নানা জটিল সমস্যার উদ্ভব হতে পারে।

জমি কেনার পর করণীয়

কেনার সময়ই জমি মেপে দখল বুঝে নিন। মাপার সময় সম্ভব হলে সংলগ্ন জমির মালিক সহ ২/১ জন প্রতিবেশীকে উপস্থিত রাখুন;

জমি কেনার পর নিজের পরিবার পরিজন, নিকটাত্মীয় বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে মাঝে মাঝে দেখতে যান। যাতে  করে পরবর্তীতে ঐ জমির অবস্থান চিহ্নিত করতে কোন সমস্যা না হয়;

জমি কেনার পর অবশ্যই সীমানা  প্রাচীর (boundary wall) দিতে হবে, সেটি পাকা হোক বা কাঁচা;

মালিকানার বিবরণসহ সাইনবোর্ড টাঙ্গাবেন;

একই সাথে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট এসি (ল্যান্ড) অফিসে গিয়ে নামজারি করাবেন এবং হাল সন পর্যন্ত সকল খাজনা পরিশোধ করবেন। নামজারির পড়চা, ডিসিআর এবং খাজনার রশিদ সাবধানে রাখবেন। প্রয়োজনে একাধিক ফটোকপি করে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে সংরক্ষণ করবেন। মনে রাখবেন, ডিসিআর বা খাজনার রশিদ হারিয়ে গেলে তা পুনরায় পাওয়া  যায়না। এগুলো একবারই ইস্যু করা হয়।

জমি ব্যবহার না করে খালি ফেলে না রাখা উচিৎ নয়। যত  তাড়াতাড়ি সম্ভব সেখানে ঘর বা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য কোন স্থাপনা  তৈরী করতে হবে বা কৃষি কাজ, বাগান ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করতে হবে;

জমি দেখাশোনার জন্য যতটা সম্ভব নিয়মিত যেতে হবে। সম্ভব হলে দেখাশোনার জন্য কোন বিশ্বস্ত লোক রাখতে হবে;

প্রতিবেশী এবং আশেপাশের জমির মালিকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলার চেষ্টা করতে হবে।

কোন বিষয়ে সমস্যা হলে প্রথমে স্থানীয়ভাবে সেটা সমাধানের চেষ্টা করতেহবে। সমাধান না হলে নিকটস্থ থানায় জিডি করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগতব্যবস্থা নিতে হবে।

Leave a comment