Contact us:
info@elawyerbd.com

জমির প্রকারভেদ

ভিপি সম্পত্তি

আসলে এটি অর্পিত সম্পত্তি (Vested Property)। তবে সংক্ষেপে ভিপি সম্পত্তি হিসেবেই অধিক পরিচিত । ০৬-০৯-১৯৬৫ তারিখ হতে ১৬-০২-১৯৬৯ তারিখ পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের যে সকল নাগরিক ভারতে গমন ও অবস্হান করেছিলেন ১৯৫০ সনের বাস্ত্ত সম্পত্তি (Evacuee Property) আইনের অধীনে তাদের সম্পত্তিকে Vested Property এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অর্থাৎ এসকল সম্পত্তির মালিকানা তাদেরই কিন্তু তারা এদেশে না থাকায় সরকার এসকল সম্পত্তির Custodian হিসাবে কাজ করে থাকে। ভিপি সম্পত্তি ব্যবস্হাপনার স্বার্থে ঐ সকল সম্পত্তি সরকার কর্তৃক লিজ ও প্রদান করা হয়ে থাকে। ভিপি সম্পত্তি কেনা-বেচাসম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বর্তমানে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন ২০০৮ এর অধীনেতা পূর্ব মালিক গণের নিকট ফেরত প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভিপি শাখায় যোগাযোগ করা যেতে পারে।

 

কোর্ট অব ওয়ার্ডস (Court of  Wards)

১৮৭৯ সনের কোর্ট অব ওয়ার্ডস আইন অনুযায়ী কোন জমিদার নিঃসন্তান অবস্হায় অথবা নাবালক সন্তান রেখে মৃত্যুবরণ করলে তার জমিদারি তত্ত্বাবধায়ন করবে সরকার কর্তৃক ক্ষমতা প্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ। এই কর্তৃপক্ষকেই বলে Court of Wards বলে। বর্তমানে জমিদারি প্রথা না থাকলেও কোর্ট অব ওয়ার্ডস সংক্রান্ত কিছু জটিলতা এখনও রয়ে গেছে। বিশেষ করে গাজীপুর জেলায় এধরনের কিছু বিবাদ এবংমামলা রয়েছে। কোর্ট অব ওয়ার্ডস এর সম্পত্তি ব্যবস্হাপনার জন্য সরকারকর্তৃক একজন ম্যানেজার নিযুক্ত থাকেন।

 

ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি (waqf)

কোন মুসলমান কর্তৃক ধর্মীয় বা সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ভার নির্বাহের জন্য দানকৃত সম্পত্তিই ওয়াকফ সম্পত্তি। যিনি ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি তত্ত্বাবধান করেন বাব্যবস্হাপনার দায়িত্বে থাকেন তাকে মোতোওয়াল্লী(Manager) বলে। যিনি দান করেন তাকে ওয়াকিফ বলা হয়। মোতোওয়াল্লী ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন না। ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি  বিক্রয়ের জন্য ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের অনুমতির প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের অফিসটি ৪, নিউইস্কাটন রোড-এ অবস্হিত। সরকারের একজন যুগ্মসচিব পদ মর্যাদার কর্মকর্তা ওয়াক্‌ফ প্রশাসকেরদায়িত্ব পালন করে থাকেন। এটি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি দপ্তর।

 

অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি

সাধারণত ‘স্হাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ এবং সম্পত্তি হুকুম দখল অধ্যাদেশ, ১৯৮২’ Immovable Property (Acquisition and Requisition) Ordinance 1982 এবং আরও কয়েকটি বিশেষ আইনের আওতার ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়ে থাকে।ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং যেকোন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমিই অধিগ্রহণ বা Acquisition  করা হয়। যে প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অধিগ্রহণ করা হয় সম্পত্তি তাদের অধীন হয়ে যায়। সাধারণত কোন জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজের জন্যই জমি অধিগ্রহণ করা হয়ে থাকে। যেমন-রাস্তা,  সেতু,  বাঁধ নির্মাণ বা কোন সরকারী ভবন নির্মাণ ইত্যাদি। কোন জেলার অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ ঐ জেলার ডিসি অফিসের এল এ শাখার পাওয়া যায়। জমি কেনার বা বুঝে নেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে ক্রয়কৃত জমির মধ্যে অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি না থাকে।

 

পরিত্যক্ত সম্পত্তি

পরিত্যক্ত  সম্পত্তি বা Abandoned Property হলো সেই সম্পত্তি যার মালিকানা কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে থাকলেও সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সুদীর্ঘকাল অনুপস্থিত এবং যার কোন খাজনাও পরিশোধ করা হয়নি। এগুলোও সরকারী ব্যবস্হাপনায় থাকে। এ সকল সম্পত্তির ক্রয়-বিক্রয়ও নিষিদ্ধ ।

 

জমির শ্রেণী বিভাগ

    নাল-            দুই বা তিন ফসলি আবাদি জমি কে নাল জমি বলে।

    বাইদ-          আবাদি বা আবাদযোগ্য নিচু জমি। ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রচলিত।

    ভিটি-           বসতবাড়ির ভূমি বা বসতবাড়ি নির্মাণের মত উঁচু জমিকে ভিটি বলে।

    সিকস্তি-        নদী ভাঙ্গনে পানিতে জমি বিলীন হয়ে যাওয়াকে সিকস্তি বলে।

    পরস্হি-        নদীতে নতুন চর জেগে উঠে যে জমির আবির্ভাব হয়ে তাকে পয়স্থি জমি বলে।

 

Leave a comment