Contact us:
info@elawyerbd.com

ইজমেন্ট রাইট বা সুখাধিকার

ইজমেন্ট বা সুখাধিকার বলতে এমন এক সুবিধাভোগী স্বত্বের অধিকারকে বুঝায় যা দ্বারা কোনো জমির মালিক বা দখলকার তা জমির সুবিধাজনক ভোগের জন্য অপর কোনো ব্যক্তির জমির উপর দিয়ে কিছু করতে বা করা অব্যাহত রাখতে, কোনো কিছু নিবৃত্ত করতে বা নিবৃত্ত অব্যাহত রাখতে পারে । (১৯৮২ সালের ইজমেন্ট রাইট এক্ট এর ৪ ধারা )

এ অধিকার অর্জন সম্পর্কে ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ২৬ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি শান্তিপূর্ণভাবে এবং প্রকাশ্যভাবে কোনো ব্যক্তির ভূ-সম্পত্তি বাঁধাহীন ভাবে ও নিরবচ্ছিন্ন ভাবে ২০ বত্সর কাল ধরে ভোগ দখল করে থাকলে তাতে তার পথ চলার অধিকার জনিত স্বত্ব অর্জিত হয় ।

 

দখলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবী

যদি কোনো ব্যক্তি কোনো কৃষি বা অকৃষি জমি শান্তিপূর্ণ ভাবে এবং কোনো ব্যক্তির বাঁধাহীন ভাবে একটানা ১২ বছর নিরবচ্ছিন্ন ভাবে তার নিজের ভোগ দখলে রাখে তাহলে ঐ ব্যক্তি ভোগ দখলকৃত জমিটিতে মালিকানা দাবী করতে পারে এবং ঐ জমিটি হতে বেদখলের হাত থেকে মুক্ত থাকতে পারেন । তবে জমিটি যদি সরকারের জমি হয়ে থাকে তাহলে বেদখলের হাত থেকে মুক্ত থাকার জন্য এবং মালিকানা দাবীর জন্য জমিটিতে ৬০ বত্সর নিরবচ্ছিন্ন ভাবে দখলে থাকতে হবে । (১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ২৯ ধারা)

 

জবর দখলের মাধ্যমে মালিকানা দাবী

চরের জমি, খাসজমি বা অর্পিত/পরিত্যক্ত সম্পক্তি একসনা লীজ নিয়ে ভোগ দখলরত থাকা অবস্থায় অনেকেই জমির মালিকানা দাবী করে আদালতে স্বত্বের মামলা দায়ের করে থাকেন ৷ যদিও একসনা লীজ কোনো টেনান্সী অধিকার সৃষ্টি করে না  । নির্দিষ্ট সময় পর বা ৩০ শে চৈত্র তারিখে একসনা লীজভুক্ত জমির দখল সয়ংক্রিয় ভাবে সরকারের উপর বর্তায় ৷ লীজ গ্রহীতা মনে করেন যে সরকারী জমি বা খাস জমিতে ১২ বত্সর দখলে থাকলেই ঐ জমির মালিক হওয়া যায় । কিন্তু প্রকৃত সত্য কথা হলো সরকারী জমিতে ৬০ বত্সর যাবত্‍ ভোগ দখল তথা জবরদখল বা “Adverse Possession” এর মাধ্যমে মালিকানা দাবী করা যায়  । (১৯৯০ সালের ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়াল ৯৬ ও ৯৭ অনুচ্ছেদ)

 

১২ বত্সর বা তার অধিককাল পর্যন্ত দখলে থাকার পর অধিকার

১২ বত্সর সংক্রান্ত ধারণাটি মূলত ১৯৪৯ সনের অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন থেকে এসেছে  । এ আইনের ৬(২) ধারায় বলা হয়েছে একজন অকৃষি প্রজা কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে ১২ বত্সর বা তার অধিককাল ধরে অবস্থান করলে সে উক্ত জমিতে নিম্নরূপ অধিকার ভোগ করতে পারবেন:

পাকা বাড়ী তৈরী করতে পারবে ;

যে কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় তৈরী করতে পারবে;

পুকুর খুড়তে পারবে;

গাছ লাগিয়ে তার ফলফোগ করতে এবং উক্ত গাছ কর্তন/বিক্রয় করতে পারবে ইত্যাদি  ।

 

অধিকার

জনসাধারণের চলাচলের জন্য রাস্তাঘাট ব্যবহারের অধিকার ।

টিউবওয়েল/কুপ/তারাপাম্প থেকে খাবার পানি ব্যবহারের অধিকার ।

পুকুর/জলাধারের পানি ব্যবহার কিংবা সেখানে গোসলের অধিকার ।

আলো বাতাস চলাচলের জন্য গমনাগমনের পথ পাবার অধিকার ।

২০ বত্‍সর যাবত্‍ কোনো জমি ভোগ দখলের পর তা স্বাধীন ভাবে ব্যবহারের অধিকার ।

সরকারী জমি হলে ৬০ বছরের বেশী সময় ধরে ব্যবহারের পর স্বাধীন ভাবে ভোগ দখলের অধিকার । (১৮৮২ সালের ইজমেন্ট রাইট এ্যাক্ট এর ৪ ধারা ) (১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ২৬ ধারা )

 

লঙ্ঘন

সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা হবে মর্মে নোটিশ না পাওয়া ।

অধিগ্রহণের বিরূদ্ধে আপত্তি দাখিলের সুযোগ না দেওয়া ।

আপত্তি দাখিলের জন্য আইনে বর্ণিত সময় না পাওয়া ।

সরকার কর্তৃক সম্পত্তি অধিগ্রহণের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে নোটিশ না পাওয়া।

ক্ষতিপূরণের দাবী করার জন্য আইনে নির্ধারিত সময় ও সুযোগ না পাওয়া ।

সম্পত্তিটি বর্গাদার বা বর্গাচাষীর হেফাজতে বা অধীনে থাকাকালীন অধিগ্রহণ হয়ে থাকলে বর্গাদারকে ক্ষতিপুরণ দাবী করার সুযোগ না দেওয়া ।

প্রকৃত বর্গাদারকে সম্পত্তি অধিগ্রহণের জন্য ক্ষতিপূরণ না দেওয়া ।

যে উদ্দেশ্যে সম্পত্তিটি অধিগ্রহণ করা হয়েছে সেই উদ্দেশ্যে সম্পত্তিটি ব্যবহার না করা ।

Leave a comment